শাকিব আল হাসানের বিস্ফোরক মন্তব্য 'আমি বাড়ি যাচ্ছি না' বাংলাদেশের শেষ টেস্টের আগে
বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অন্যতম তারকা অলরাউন্ডার শাকিব আল হাসান সম্প্রতি এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন যা ক্রিকেট বিশ্বে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেছেন, "আমি বাড়ি যাচ্ছি না," যা তাঁর আন্তর্জাতিক ক্রিকেশাকিবের এই মন্তব্য বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, এবং এটি দল ও তার ভক্তদের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।ট ক্যারিয়ারের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এটি শাকিবের বাংলাদেশের শেষ টেস্টের আগে এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তার ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা ধরনের গুঞ্জন চলছে।
এ ধরনের মন্তব্য সাধারণত অনেকের কাছেই বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে, কারণ শাকিব আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি। তবে তিনি স্পষ্ট করে জানাননি যে, আগামীদিনে তিনি কোন ফরম্যাটে বা কোথায় খেলবেন।

শাকিব আল হাসানের শেষ টেস্ট নিয়ে সংশয় থামছে না। সম্প্রতি ঢাকায় বর্তমানে শাকিব আল হাসানকে নিয়ে প্রতিবাদ চলছে। বাংলাদেশের ক্রিকেট কিংবদন্তি শাকিব আল হাসানকে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের জন্য দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা হবে তার টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ।
তবে, ESPNcricinfo'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শাকিব জানিয়েছেন, তিনি এখনও নিশ্চিত নন যে তিনি ঢাকায় আসবেন কি না তার শেষ টেস্ট খেলতে। "আমি জানি না পরবর্তী কোথায় যাচ্ছি, তবে প্রায় নিশ্চিত যে আমি বাড়ি যাচ্ছি না," শাকিব বলেন।
এর আগে শাকিব তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, বিশেষ করে বাংলাদেশে ফেরার বিষয়ে। তিনি এই মতামতটি জানিয়েছিলেন যখন আগস্ট ৫ তারিখে বেশ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার হন, সেই দিন বাংলাদেশের সরকার কার্যত ১৫ বছরের শাসন পরিত্যাগ করে। এই ঘটনার পর থেকেই শাকিবের দেশে ফিরে আসা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তার নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এখন তার টেস্ট ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য বড় ধরনের অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে।ভারত gegen বাংলাদেশের দুই ম্যাচ সিরিজের শেষে, বাংলাদেশের প্রিমিয়ার অলরাউন্ডার শাকিব আল হাসান তার শেষ টেস্ট নিজের দেশে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে খেলতে ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন। তবে, বাংলাদেশে চলমান প্রতিবাদগুলোর কারণে এখন শাকিব বলছেন, তিনি ঢাকায় যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
ঢাকায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আসন্ন প্রথম টেস্টের জন্য শাকিবকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তার ঢাকা সফর নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। শাকিবের এই মন্তব্য যেন নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে তখন যখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় তার খেলায় নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে।
শাকিব আল হাসানের শেষ টেস্ট নিয়ে এই পরিস্থিতি আরও জটিল এবং কিছুটা বিতর্কিত হয়ে উঠেছে, যা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য নতুন দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করেছে।শাকিব আল হাসান তাঁর বাড়ি মাগুরা থেকে সংসদ সদস্যও ছিলেন। এই অস্থিরতার সময়, শাকিব সহ ১৪৭ জনের নাম একটি FIR-এ ছিল, যেখানে একটি হত্যা মামলায় তাকে যুক্ত করা হয়েছিল, এমন খবর দিয়েছে ESPNcricinfo।
এটি উল্লেখযোগ্য যে শাকিব এখনও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে আসন্ন প্রথম টেস্টের জন্য বাংলাদেশের স্কোয়াডে আছেন।
বাংলাদেশে শাকিবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ
বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন, শাকিব নিয়ে কোনো নির্দেশনা তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) থেকে পাননি। তবে, নির্বাচক হান্নান সরকার এ সপ্তাহের শুরুতে জানিয়েছিলেন যে, কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই তারা শাকিবকে দলে রেখেছেন।
যদিও শাকিবকে বাংলাদেশে নিরাপদভাবে আসার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল, তবুও বুধবার সন্ধ্যায় কিছু ছাত্র তার আগমনকে কেন্দ্র করে প্রতিবাদ করতে শুরু করেন। ESPNcricinfo অনুযায়ী, "মিরপুর ছাত্র জনতা" নামক একটি গ্রুপ BCB-কে জানিয়েছে যে, তারা শাকিব যদি ঢাকায় এসে তার শেষ টেস্ট খেলেন, তবে তারা স্টেডিয়ামে তার উপস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করবে।
এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের ক্রিকেট এবং শাকিবের ক্যারিয়ারের জন্য বেশ উদ্বেগজনক, এবং এটি খেলার পরিবেশকে কঠিন করে তুলছে।
সংবাদ সংস্থা এএফপির মতে, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ একটি বিবৃতিতে বলেছেন যে, তিনি শাকিব আল হাসানকে দেশে ফিরে না আসার পরামর্শ দিয়েছেন "অসংগত পরিস্থিতি এড়ানোর" জন্য।
আসিফ মাহমুদ বলেছেন, "আমি শাকিবকে পরামর্শ দিয়েছি যাতে তিনি [বাংলাদেশে] না আসেন, যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়। এই সিদ্ধান্তটি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এবং দেশের সম্মান রক্ষা করার জন্য নেওয়া হয়েছে।"
বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে প্রথম টেস্ট ম্যাচটি ঢাকায় ২১ অক্টোবর শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে শাকিবের আসন্ন উপস্থিতি নিয়ে চলমান অস্থিরতা এবং তার নিরাপত্তার আশঙ্কা এই ম্যাচের পরিবেশে নতুন অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে।
Comments
Post a Comment